বিআইডিএসের গবেষণা

দেশে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৩%, কমেছে উৎপাদনশীলতা

কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় সাত বছরে দেশে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। একই সময়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে কৃষি খাতে মুনাফা কমেছে। আবার

কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় সাত বছরে দেশে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। একই সময়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে কৃষি খাতে মুনাফা কমেছে। আবার অনেকে কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি দেয়ায় কৃষি উৎপাদনশীলতা কমেছে ১২ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণায় এসব বিষয় উঠে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে চার দিনব্যাপী বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের শেষ দিনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গবেষণাপত্র তুলে ধরেন। ‘বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো তাজনূর সামিনা খানম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২-১৮ সালের মধ্যে কৃষির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তাদের মুনাফায় প্রভাব ফেলেছে। ২০১১-২০ সালের মধ্যে মাটির অবক্ষয় এবং অযাচিত কৃষি পদ্ধতির কারণে জমির উর্বরতা কমেছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। এছাড়া দেশে কৃষকের গড় বয়স এখন ৪৮ বছর বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। এসব প্রবাসী শ্রমিকের কারণে কৃষি উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়ে কিনা তা দেখানো হয় আরেকটি উপস্থাপনায়। মো. নাদিম উদ্দীনের উপস্থাপিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যারা বিদেশে থাকে না তাদের তুলনায় যারা বিদেশে থাকে তাদের ২ শতাংশের বেশি জমি অনাবাদি থাকে। কারণ বিদেশে চলে যাওয়ায় শ্রম দেয়ার মানুষ কমে যায়। আবার বিদেশী টাকায় জীবনধারণের বিকল্প তৈরি হওয়ায় কৃষির ওপর নির্ভরতা কমে যায়। ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ১ শতাংশ রেমিট্যান্স বাড়লে কৃষির পতিত জমির পরিমাণ বাড়ে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। তাই কৃষিজমি পতিত থাকলে কিছুটা শাস্তি থাকা উচিত বলে মনে করেন গবেষক কাজী ইকবাল।

সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) মহাপরিচালক জন সুইনান বলেন, ‘বাজারে ধাক্কা লাগলে অনেক মন্দ প্রভাবের মধ্যে নীতি পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হওয়ার মতো ভালো ফলাফলও পাওয়া যায়।’

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্কুল ফিডিংয়ে ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন। নিরাপদ খাদ্যের জন্য মোড়কজাত ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শও দেন।

আরও